সিআরবি রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দিয়ে শিশুর আকুতি!

চট্টগ্রামে ফুসফুস খ্যাত সিআরবি রক্ষায় আকুতি জানিয়ে প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দিয়েছে শিশু শিক্ষার্থী জান্নাত। চিঠিতে চট্টগ্রামের সব শিশুদের পক্ষ থেকে এটি রক্ষায় মানবিক আবেদন জানায় শিশুটি।

ফুসফুস খ্যাত সিআরবি রক্ষায় প্রধানমন্ত্রীকে চিঠি দিয়ে শিশুর আকুতি!

চট্টগ্রামের অঙ্কুর সোসাইটি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী মিমবর হুরে জান্নাত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কাছে পাঠানো চিঠিতে আকুতি জানিয়ে বলেছে, চট্টগ্রাম শহরের অধিকাংশ শিশু চার দেয়ালের মাঝে বন্দি জীবন কাটায়। একটু অবসর পেলেই সিআরবিতে গিয়ে স্বস্তির নিঃশ্বাস নেয়। শুধু শিশুরাই নয়, নবীণ- প্রবীণ সব শ্রেণির মানুষ এখানে এসে প্রকৃতিকে উপভোগ করেন।

নগরীর পাঁচলাইশ সুগন্ধা আবাসিক এলাকার নাসিরাবাদ হাউজিং সোসাইটির বাসিন্দা সে। চিঠিতে সিআরবিতে হাসপাতাল নির্মাণ না করার অনুরোধ জানায় শিশু মিমবর। প্রধানমন্ত্রীর কাছে লেখা চিঠিটি ৫ আগস্ট ডাকযোগে পাঠানো হয়।
পাশাপাশি চিঠিতে মিমবর আরও লিখেছে, আমি ছোট মানুষ, তা-ও সিআরবিকে অনেক ভালোবাসি। তাই আমি সিআরবি রক্ষার প্রতিবাদ স্বরূপ তিনটি কবিতা লিখেছি। আশা করি, আপনি সেগুলো দেখবেন। আমরা আপনাকে শিশুপ্রেমী, প্রকৃতিপ্রেমী ও মানবতাবাদী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে জানি। আপনি একজন সত্যবাদী, নিষ্ঠাবান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বিশ্বের ইতিহাসে নাম লিখিয়েছেন। সমাজকে ক্ষতবিক্ষত করা যেসব লোভীর চোখ সিআরবিতে পড়েছে, তারা নিশ্চয় আপনাকে ভুল বুঝিয়েছে। তাই আমরা এখনো সিআরবি রক্ষার সঠিক সিদ্ধান্ত পাই নি।
চিঠিতে মিমবর লিখেছে, শতবর্ষী বৃক্ষের বৈচিত্র্যে ভরা চট্টগ্রামের ফুসফুসটিকে ধ্বংস করে বাংলাদেশ রেলওয়ে সেখানে নাকি একটা বেসরকারি হাসপাতাল বানাতে চায়। হাসপাতাল হোক, কিন্তু সেটা ফুসফুসকে ধ্বংস করে নয়। এটাই বীর চট্টলার দাবি। এ দাবির জন্য এত আন্দোলন, এত ক্ষোভ, এত সভা। এখানে রয়েছে শহীদ আবদুর রবসহ অসংখ্য শহীদের কবর। হাসপাতাল হলে ধীরে ধীরে তাদের সমাধিস্থল বিলীন হয়ে যাবে।
ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনে এই সিআরবি তথা পাহাড়তলী ছিল বিপ্লবের সূতিকাগার। তাই একটি হেরিটেজ জোন হিসেবে সিআরবিকে রক্ষা করা আমাদের কর্তব্য। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, আপনি আমার শ্রদ্ধেয় নানুর মতো। আর আমি আপনার নাতনির বয়সী। তাই আশা করি আপনি আমার আবদার ফেলবেন না।
ইতি, আপনার স্নেহধন্য, মিমবর হুরে জান্নাত।