চট্টগ্রাম নগরের আগ্রাবাদ বাদামতলী মোড়ে গেলে হঠাৎ চোখে পড়তে পারে একটা অবাক করা দৃশ্য। দেখতে পাবেন, রাস্তার ধারে দাঁড়িয়ে রয়েছে ‘মাস্ক গাছ’। সাধারণত গাছে ফুল-ফল ধরলেও এই বিশেষ গাছে ঝুলে আছে মাস্ক!
মহামারিতে মানুষকে সচেতন করতে এই ‘মাস্ক গাছ’ ডবলমুরিং থানা পুলিশের অভিনব উদ্যোগ। শনিবার (৭ আগস্ট) বেলা ১২টার দিকে এই কার্যক্রম উদ্বোধন করেন নগর পুলিশের উপকমিশনার (পশ্চিম) মো. আব্দুল ওয়ারীশ।
জানা গেছে, ডবলমুরিং থানার ছয়টি বিটের ১০টি স্পটে এমন ১০টি ‘মাস্ক গাছ’ বসানো হয়েছে। লোহার কাঠামোতে গাছের ডালপালা দিয়েই ‘মাস্ক গাছ’ তৈরি করা হয়েছে। এসব গাছে পর্যায়ক্রমে ১ লাখ মাস্ক থাকবে। সেখান থেকে যে কেউ বিনামূল্যে নিতে পারবে মাস্ক। বিট পুলিশিং ডে উপলক্ষে মাস্ক পরা নিয়ে সচেতনতা বাড়াতেই ডবলমুরিং থানার ওসি মোহাম্মদ মহসীন এই উদ্যোগের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়ন করছেন।
শনিবার আগ্রাবাদ বাদামতলী মোড়ে 'মাস্ক গাছ' উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে নগর পুলিশের উপকমিশনার (পশ্চিম) মো. আব্দুল ওয়ারীশ বলেন, এখন করোনা সংক্রমণ অনেক বেড়ে গেছে। এ অবস্থায় মাস্ক পরা জরুরি। গাছের কাঠামোতে মাস্ক রেখেছি, যাতে মানুষ মাস্ক বেছে নিতে পারে। প্রতেকে মাস্ক পরলে সংক্রমণ কমানো যাবে।
তিনি বলেন, করোনার বিস্তার রোধে পুলিশের পক্ষ থেকে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। একদিন করোনা চলে যাবে। কিন্তু পুলিশের এসব অসাধারণ উদ্যোগের কথা মানুষ মনে রাখবে। পরে পথচারীদের মাঝে মাস্ক বিতরণ করেন নগর পুলিশের উপকমিশনার (পশ্চিম) মো. আব্দুল ওয়ারীশ।
ডবলমুরিং থানার ওসি মোহাম্মদ মহসীন বলেন, কিছু মানুষের মাঝে মাস্ক পরা নিয়ে আছে অনীহা, বহু মানুষ বিষয়টিকে গুরুত্ব দিচ্ছে না। এমন পরিস্থিতিতে মানুষকে সচেতন করতে, মাস্ক ব্যবহারে উদ্বুদ্ধ করতে এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছি। গাছ থেকে মাস্ক নিতে মানুষ আনন্দ অনুভব করবে। গাছে যেমন বিভিন্ন আকৃতির ফল থাকে, এই মাস্ক গাছেও আট ধরনের মাস্ক আছে। যার যা পছন্দ নিতে পারবে। আমার স্বপ্ন ডবলমুরিংয়ের সবাই মাস্ক পরবে।
তিনি আরও বলেন, অদৃশ্য শত্রু করোনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ে সচেতনতার বিকল্প নেই। সবাইকে মাস্ক অবশ্যই ব্যবহার করতে হবে। নিত্যপণ্যের মতো তা সঠিকভাবে ব্যবহার করা জীবনের অংশে পরিণত করতে হবে।
গত এক বছরেরও বেশি সময় ধরে করোনার দাপটে নাজেহাল মানুষ। ভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ে প্রতিদিনই বাড়ছে সংক্রমণ। দিকে দিকে হাহাকার। এখন জামা কাপড়ের মতোই আবশ্যক মাস্ক। বর্তমানে বাইরে বের হলেই মাস্ক পরার পরামর্শ দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা। তবুও কিছু মানুষের মধ্যে এখনও সচেতনতার অভাব রয়েই গিয়েছে। তাই সচেতনতা বাড়তে পুলিশের এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগকে সাধুবাদ জানাচ্ছে সাধারণ মানুষ।

0 Comments