আনন্দবাজারের 'অঘটন'কে সাকিব-রিয়াদদের চপেটাঘাত
অদম্য বাংলাদেশ, দুর্দান্ত ফর্মে টাইগার ক্রিকেটাররা। বাঘের থাবায় নাজেহাল অস্ট্রেলিয়া ক্রিকেট দল। বাংলাদেশ সফরে এসে মুখ থুবড়ে পড়েছে ক্যাঙারুরা। রীতিমতো নাকানি-চুবানি খাচ্ছে তারা। চারদিকে টাইগার বন্দনায় মুখর সমর্থকরা। বিশ্বমিডিয়াও বাংলাদেশি ক্রিকেটারদের সুনাম করছেন। কিন্তু ব্যতিক্রম শুধুমাত্র পশ্চিমবঙ্গের প্রভাবশালী সংবাদপত্র 'আনন্দবাজার পত্রিকা।'
পাঁচ ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচে বাংলাদেশ জয়ের পর 'ফের অঘটন, দ্বিতীয় টি-২০ ম্যাচেও অস্ট্রেলিয়াকে হারাল বাংলাদেশ' শিরোনামে খবর প্রকাশ করেছিল আনন্দবাজার পত্রিকা। যার মাধ্যমে রীতিমতো টাইগারদের জয়কে খাটো করেই দেখেছে তারা। অবশ্য বাংলাদেশ ক্রিকেট দলকে খাটো করে দেখার নীতি নতুন নয়, বেশ পুরনো তাদের ক্ষেত্রে।
তবে মাঠের খেলা দিয়েই আনন্দবাজার পত্রিকার এই সংকীর্ণ মাসনিকতাকে চপেটাঘাত করেছে সাকিব-রিয়াদরা। ধারাবাহিকতা ধরে রেখে সিরিজের তৃতীয় ম্যাচ জিতে নিয়েছে টাইগাররা। ফলে রেকর্ড গড়ে সিরিজও জয় করেছে তারা।
টানা তিন ম্যাচেই ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছে টিম বাংলাদেশ। প্রথম ম্যাচে ২৩ রানে জয়ের পর দ্বিতীয় ম্যাচেও জয়ের ধারা ধরে রাখে টাইগাররা। দ্বিতীয় ম্যাচে ৫ উইকেটে জয় পায় বাংলাদেশ। আর তৃতীয় টি-টোয়েন্টি জিতে নেয় ১০ রানে। এই জয়ে প্রথমবারের মত টি-টোয়েন্টি সিরিজে অজিদের হারাল বাংলাদেশ।
সিরিজ জয়ের ম্যাচে ১২৭ রান করেন সাকিব-রিয়াদরা। স্বল্প রানের ম্যাচে আগের দুই ম্যাচও জিতেছিল টাইগাররা। আগের দুই ম্যাচের মত এই ম্যাচেও কম রান হয়। হয়তো কিছুটা সংশয় ছিল। তবে তা দূর করেছেন বোলাররা। নিজেদের মিতব্যয়ী বোলিংয়ে অজি ব্যাটসম্যানদের রানের চাকা আটকে দেন তারা। অল্প রানের লক্ষ্যে খেলতে নেমে ধরাশায়ী হয় ক্যাঙারুরা।
ঐতিহাসিক এই জয়ে বাংলাদেশ দলের প্রশংসায় মেতেছেন আইপিএল ক্লাব রাজস্থান রয়্যালস। তারা মুস্তাফিজের বোলিংয়ের দারুণ প্রশংসা করে। এছাড়া ইএসপিএন ও ক্রিকইনফো টুইটবার্তায় মুস্তাফিজের প্রতি মুগ্ধতা প্রকাশ করে বলেছে, কোন উইকেট না নিয়েও একটি ম্যাচে কিভাবে মাস্টারক্লাস হতে হয় তার উদাহরণ ফিজ।
এসব দেখে হয়তো এদিন টনক নড়ে আনন্দবাজার পত্রিকার। আগের ম্যাচের শিরোনামে লেখা 'অঘটন' শব্দ বাদ দিয়ে এবার তারা 'চমক' শব্দটি ব্যবহার করে। সিরিজ জয়ের পর তারা শিরোনাম করেছে-'বাংলাদেশের চমক, দুই ম্যাচ বাকি থাকতেই অস্ট্রেলিয়ার বিরুদ্ধে টি২০সিরিজ জয়।'
তবে এবারই নতুন নয়, ভারতীয় সংবাদ মাধ্যমে বাংলাদেশের জয়কে খাটো করা হয় এর আগেও। এর আগে ভারতের মাটিতে টি-টোয়েন্টিতে ভারতকে হারিয়েছিল বাংলাদেশ। সে ম্যাচে হারের পর কলকাতার শীর্ষ পত্রিকা আনন্দবাজার লিখেছিল, ‘দুইবার আউট ছিলেন মুশফিকুর, ডিআরএস আর পন্তের ভুলেই কি হারতে হলো ভারতকে?’
বড় দলের বিপক্ষে বাংলাদেশের জয় এখন আর নতুন কিছু নয়। শক্তিশালী সব দলকেই হারিয়েছে তারা। এবার ঘরের মাঠে অস্ট্রেলিয়া দলকে হারিয়ে উড়ছে বাংলাদেশ। সাধুবাদ পাচ্ছে সবার। তবে এই সামান্য সাধুবাদ দিতেই যেন তাদের কৃপণতা। টাইগারদের জয়কে খাটো করে উপস্থাপন করার মধ্যেই হয়তো তারা বুনো উল্লাস পায়। তবে টাইগারদের পারফরম্যান্স জানান দিচ্ছে এই নীতি বদলাতে হবে শিগগিরই।

0 Comments