পরীমনি ইস্যুতে মুখ খুললেন অভিনেত্রী অঞ্জনা

চিত্রনায়িকা পরীমনি ইস্যুতে মুখ খুলেছেন নব্বই দশকের জনপ্রিয় অভিনেত্রী ও শিল্পী সমিতির কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য অঞ্জনা রহমান। তিনি বলেছেন, ‘সন্ধ্যার পর মেয়েদের বের হওয়া ঠিক না। শুধু পরীমনির নয়, গোটা সমাজের নারীদের এটা মনে রাখা উচিত।’

পরীমনি ইস্যুতে মুখ খুললেন অভিনেত্রী অঞ্জনা

শনিবার (৭ আগস্ট) বিকেলে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন কর্পোরেশনে (এএফডিসি) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এমন মন্তব্য করেন তিনি।
 

তিনি বলেন, ‘সে ঘরের মধ্যে কি করল সেটা আমাদের দেখার বিষয় না। কিন্তু তার ব্যক্তিগত কোনো অপরাধ বা কর্মকাণ্ড যদি জনসম্মুখে চলে আসে তখনই শিল্পী সমিতির দেখার বিষয়।’.
 
অঞ্জনা বলেন, ‘পরীমনি বলেছে, শিল্পী সমিতি আমার পাশে নেই। কিন্তু এটি পুরোপুরি ভুল। তাকে সেক্রেটারি চিঠি দিতে বলেছিলেন, কিন্তু সে দেয়নি। নিজে সংবাদ সম্মেলন করে অনেক ভুল তথ্য দিয়েছেন পরীমনি।’
 
এছাড়া ভবিষ্যতে কোনো শিল্পী যেন এমন ভুল না করেন, সেই তাগিদ দেন 'অশিক্ষিত', 'জিঞ্জির', 'অভিযান' ছবির নায়িকা অঞ্জনা।
 
এদিকে, মাদক মামলায় পুলিশের রিমান্ডে থাকা চিত্রনায়িকা পরীমনির সদস্যপদ স্থগিত করেছে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি। শনিবার (৭ আগস্ট) এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান সমিতির সভাপতি মিশা সওদাগর।

গত ৪ আগস্ট পরীমনির বনানীর বাসায় অভিযান চালায় র‌্যাব। পরে সেখানে অভিযান শেষে নায়িকাকে আটক করা হয়। অভিযানে তার বাসা থেকে মাদক উদ্ধারের দাবি করে র‌্যাব। তার দেওয়া বিভিন্ন তথ্য নিয়ে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। বনানীর নিজ বাসা থেকে মাদকসহ চিত্রনায়িকা পরীমনিকে আটকের পর নড়েচড়ে বসেছে ফিল্মপাড়া। বিষয়টি নিয়ে ভাবছে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নেতারা।
 
পরীমনিকে আটকের চারদিনের মাথায় এ বিষয়ে অনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলন করল বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি। কার্যনির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শিল্পী সমিতি থেকে পরীমনির সদস্যপদ স্থগিত করা হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়েছে।
 
সমিতির নেতারা মনে করছেন, পরীমনি সমিতির সংবিধান পরিপন্থী কাজ করেছেন। তার কার্যকলাপে সমিতির সম্মান ক্ষুণ্ন হয়েছে।
 
সমিতির গঠনতন্ত্রের ৬-এর ‘খ’ ও ৯-এর ‘গ’ অনুচ্ছেদে বলা হয়েছে, সমিতির কোনো সদস্য যদি সমিতির ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করে কোনো কাজে লিপ্ত হয় সঙ্গে সঙ্গে তার সদস্যপদ সাময়িকভাবে স্থগিত হবে। তবে আদালতে যদি প্রমাণ হয় তিনি নির্দোষ, তাহলে ফিরে পাবেন পদ। আর যদি দোষী সাব্যস্ত হন, তাহলে আজীবনের জন্য সমিতির সদস্যপদ হারাবেন।
 
পরীমনির বিষয়ে এক সাক্ষাৎকারে শিল্পী সমিতির সভাপতি মিশা সওদাগর বলেছিলেন, ‘শিল্পী সমিতি সবসময় শিল্পীদের পাশে থাকবে। এটা ব্যক্তিগত সমিতি না, শিল্পী সমিতি। সভাপতি হিসেবে শিল্পী সমিতির সংবিধান আমাকে সমুন্নত রাখতে হবে। সংবিধান যা বলবে তাই হবে। এ নিয়ে আমি কিছু বলতে পারছি না। সংবিধান পাশ কাটিয়ে যেতে পারব না।’
 
এর আগে শুক্রবার (৬ আগস্ট) ডিবি কার্যালয়ে পরীমনি প্রসঙ্গে জায়েদ খান বলেন, ‘শিল্পী সমিতি তৈরি হয়েছিল শিল্পীদের স্বার্থ আর সম্মান রক্ষার জন্য। শিল্পীরা নিজেরাই বিনয়ী হবেন, সমাজের আইডল হবেন। তারা যদি অপকর্মে জড়িয়ে যায় তাহলে আমি বলব, এর দায় সম্পূর্ণ ব্যক্তির। শিল্পীদের উচিত ভালোবাসা দিয়ে দর্শক হৃদয় জয় করা। অর্থের লোভে কেউ খারাপ কাজে জড়িত হলে এ দায় ব্যক্তির।’
 
তিনি আরও বলেন, ‘শিল্পীর ভালো কাজে সমিতি পাশে থাকবে। খারাপ কাজে কেন থাকবে? সমিতি কোনো খারাপ কাজের সমর্থন দিতে পারে না। পরীমনির বিষয়টি বিচারাধীন। যেহেতু তার বিরুদ্ধে মাদক আইনে মামলা হয়েছে সেহেতু গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সমিতি ব্যবস্থা নিতে পারবে। আমরা ভালোকে ভালো বলব, খারাপকে খারাপ বলব।’