শত বছরের অপেক্ষা শেষ করলেন নীরাজ

ভারতীয় অ্যাথলিট নীরাজ চোপড়া অলিম্পিকে ইতিহাস গড়েছেন। ১৯২০ সালে বেলজিয়াম অলিম্পিকে শেষবার ভারতীয় অ্যাথলিটরা ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ডে পদক জিতেছিলেন। শত বছর পর ভারতের নীরাজ আবার জিতলেন।

শত বছরের অপেক্ষা শেষ করলেন নীরাজ
শনিবার (৭ আগস্ট) টোকিও অলিম্পিকে জ্যাভলিনের শুরু থেকেই দুর্দান্ত ছন্দে ছিলেন নীরাজ।
 
প্রথম প্রচেষ্টায় ৮৭.০৩ মিটার ছুড়ে বাকিদের থেকে অনেকটাই এগিয়ে যান। দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় দূরত্ব আরও বাড়িয়ে নেন তিনি। এ বার ছোড়েন ৮৭.৫৮ মিটার। হাত থেকে জ্যাভলিন বেরনো মাত্রই পিছনের গ্যালারির দিকে তাকিয়ে দু’হাত তুলে উল্লাস করতে থাকেন নীরাজ। সেখানে বসেছিলেন তার কোচ উয়ে হন এবং ভারতীয় দলের কর্মকর্তারা।
 
চিন্তা ছিল জার্মানির জোহানেস ভেটারকে নিয়ে। যোগ্যতা অর্জন পর্বেও ভেটার ভালো কিছু করতে পারেননি। তবে অনেকেই মনে করেছিলেন, ফাইনালে তিনি নিজের আসল রূপ দেখাবেন। তবে ফাইনালে প্রথম তিন প্রচেষ্টার পরেই তিনি ছিটকে যান। লড়াইটা মূলত ছিল চেক প্রজাতন্ত্রের দুই থ্রোয়ারের সঙ্গে নীরাজের। কিন্তু দু’জনেই শেষ দুটি থ্রোয়ে ফাউল করে বসেন। ফলে নিজের ষষ্ঠ থ্রোয়ের আগেই সোনা জিতে যান নীরাজ।
 
কোয়ালিফিকেশন রাউন্ডে এ-গ্রুপ থেকে এক নম্বরে থেকে ফাইনালে উঠেছিলেন নীরাজ। নিয়ম অনুযায়ী কোয়ালিফিকেশন রাউন্ডে ৮৩.৫০ মিটার ছুঁড়তে পারলেই সরাসরি ফাইনালে খেলার যোগ্যতা অর্জন করা যায়। নীরাজ প্রথমবারের চেষ্টাতেই ৮৬.৬৫ মিটার জ্যাভেলিন ছুঁড়ে ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছিলেন। এর পর আর দ্বিতীয় ও তৃতীয় রাউন্ডে খেলেননি তিনি।
 
এর মধ্য দিয়ে স্বাধীন ভারতের প্রথম ট্র্যাক অ্যান্ড ফিল্ড অ্যাথলিট হিসেবে অলিম্পিকে পদক জিতলেন ২৩ বছর বয়সী সেনা অফিসার। বিশ্বের এক নম্বর তারকা জোহানেস ভেত্তার ফাইনাল থেকে ছিটকে যাওয়ায় সোনা জয়ের সুযোগ চলে আসে নীরাজের সামনে। নীরাজ আর কোনো ভুল করেননি। চলতি মৌসুমে একমাত্র খেলোয়াড় হিসেবে ৯০ মিটারের গণ্ডি পার করেছিলেন একমাত্র এই ভেত্তার।
 
এর ফলে অলিম্পিকের ইতিহাসে দ্বিতীয় ভারতীয় হিসেবে ব্যক্তিগত সোনার পদক জিতলেন নীরাজ। ২০০৮ সালে অভিনব বিন্দ্রা ব্যক্তিগত সোনা জিতেছিলেন।
 
শুধু তাই নয়, এতে করে টোকিও অলিম্পিকে একদিনে জোড়া পদক পেল ভারত। কুস্তিতে বজরং পুনিয়ার ব্রোঞ্জের পরেই জ্যাভলিন থ্রোয়ে সোনা জিতলেন নীরাজ। এবারের অলিম্পিকে এই প্রথম সোনা পেল ভারত। পদক সংখ্যা বেড়ে হলো ৭।